ঝড় তুলে ফাইনালে উইন্ডিজ


ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২০৫/৪
অস্ট্রেলিয়া: ১৬.৪ ওভারে ১৩১
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৪ রানে জয়ী

৭৫ বিয়োগ ৭। ২০৫ বিয়োগ ১৩১। কত হচ্ছে?
৬৮ ও ৭৪। অল্পের জন্য মিলল না। তবে মাত্র ৬ রানেরই তো পার্থক্য। এ আর এমন কি!
এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথটির ফলাফল আর ম্যাচের ফলাফল তো প্রায় মিলেই যাচ্ছে!
ক্রিস গেইল করেছেন ৪১ বলে অপরাজিত ৭৫। শেন ওয়াটসন ৯ বলে ৭। দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি দুই দলের দুই বিধ্বংসী ওপেনারের লড়াই বলে চরম বিজ্ঞাপিত হয়েছিল। ম্যাচ শেষে দেখা যাচ্ছে, তা একটুও ভুল ছিল না। ফলাফল তো নির্ধারিত হলো এই অসম লড়াইয়েই।
গত পরশু প্রেমাদাসায় প্রথম সেমিফাইনালের উইকেট ব্যাটসম্যানদের চরম পরীক্ষা নিয়েছিল। ৪০ ওভারে বল হাওয়ায় উড়ে সীমানার বাইরে গিয়ে পড়েছিল মাত্র একবার। কাল খেলা হলো অন্য উইকেটে। তবে প্রেমাদাসারই তো! সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্রিস গেইল বারবার বললেন, উইকেট ছিল স্লো। বল ব্যাটে আসছিল না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস তো আপনাকে উল্টো ধারণাই দেবে। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দুই শ ছাড়ানো স্কোর। শ্রাবণের ধারার মতো ঝরে পড়ল ছক্কা। ইনিংসে ১৪টি, গেইল একাই মারলেন ৬টি। রহস্যটা কী? বারবার দুটি শব্দেই উত্তর দিয়ে গেলেন গেইল: ‘এক্সট্রা পাওয়ার’!
সেই ‘এক্সট্রা পাওয়ার’-এর প্রদর্শনী ক্রিকেট-বিশ্বে তাঁর মতো আর কেউই দেখাতে পারে না। অন্তত এই ম্যাচে কাইরন পোলার্ডের নামটাও যোগ করতে হচ্ছে। গত পরশু রাতে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগে ত্রিনিদাদের হয়ে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে খেলা ম্যাচ জেতানো সেই অবিশ্বাস্য ইনিংসটি বারবার দেখে অনুপ্রেরণা খুঁজেছেন। সেটিই যেন খেললেন আবারও। মাত্র ১৫ বলে ৩৮। ৩টি করে চার ও ছয়।
ওই তিন ছক্কা ডোহার্টির শেষ ওভারের পরপর তিন বলে। শেষ বলে আউট। প্রথম বলে ছক্কা মারার পর পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে গেইল স্ট্রাইক দিয়েছিলেন পোলার্ডকে। দুজনের সম্মিলিত ছক্কা-উৎসবে শেষ ওভারে এল ২৫ রান।
১৪ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১১৩। গেইল নিজেই বলে গেলেন, ১৫০/১৬০ রানের বেশি আশাই করেননি। সেখানে শেষ ছয়টি ওভার ১৯, ১০, ৮, ১৩, ১৭ ও ২৫ রান প্রসব করে স্কোর নিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুরো ২০ ওভার খেলেও ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরি না পাওয়াটা বিস্ময়কর। সেই বিস্ময়ের উত্তর মিলছে আরেকটি বিস্ময়কর তথ্যে। গেইল বল খেলেছেন মাত্র ৪১টি! ইনিংসের অর্ধেক পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখা গেল, গেইল খেলেছেন মাত্র ১৮ বল! ৭.৩ ওভারে নামা ডোয়াইন ব্রাভো ১৬ নম্বরে যখন আউট হয়ে গেলেন, গেইলের সমান বল খেলে ফেলেছেন তিনি। গেইলকে স্ট্রাইক থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টায় সফলই বলতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে লাভ হলো কই!
যেসব ছক্কায় মানুষ বিস্মিত হয়ে বলে, ‘এটা তো ছয় নয়, এটা বারো’—গেইলের প্রায় সব কটি ছক্কাই এ রকম। যে কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ হতে ৮০ মিনিটের জায়গায় লেগে গেল ১০০ মিনিট। তার পরও স্লো ওভাররেটের দায়ে জর্জ বেইলিকে ম্যাচ রেফারি অভিযুক্ত না-ও করতে পারেন। গ্যালারি থেকে বল ফেরত আসতে যে সময়টা গেছে, সেটির দায় তো আর অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের নয়।
জর্জ বেইলি কীভাবে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক, কিছুদিন ধরে এটা ক্রিকেট-বিশ্বে মুখরোচক আলোচনার বিষয়। তাসমানিয়ার অধিনায়কত্ব করার সময় তাঁর নেতৃত্বগুণ দেখে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা অভিষেক টি-টোয়েন্টিতেই তাঁকে অধিনায়ক বানিয়ে দিয়েছেন। কাল ৪৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম অপমানের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে তিনিই কোরামিন ইনজেকশন দিলেন। ২৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংসটি এমনিতে টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু এদিন ‘বেইলিও ব্যাটিং করতে জানেন’ শুধু এই প্রমাণটা ছাড়া এর আর কোনো মূল্যই থাকল না।
ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস খেলে জর্জ বেইলিকে শূন্য চোখে দেখতে হলো ক্রিস গেইলের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা মাঠে গ্যাংহাম নাচ নাচছে। আগামীকাল ফাইনালে শ্রীলঙ্কার জন্য ভয়ের একটা বার্তা ছড়িয়ে।

Advertisements

Posted on October 6, 2012, in news and tagged , , , . Bookmark the permalink. Comments Off on ঝড় তুলে ফাইনালে উইন্ডিজ.

Comments are closed.

%d bloggers like this: