লঙ্কান গণমাধ্যমের দুঃখগাথা


২০০৯ সালে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেবার পাকিস্তানের কাছে ৮ উইকেটে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা পূরণ করতে পারেনি লঙ্কানরা। এবার নিজেদের মাটিতে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল তাদের সামনে। ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনাল পর্যন্তও চলে গিয়েছিল মাহেলা জয়াবর্ধনের দল। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩৬ রানে হেরে এবারও শিরোপা জয়ের স্বাদটা নিতে পারেনি স্বাগতিকেরা।

এত কাছে এসে শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলকে ‘চোকার্স’ অভিধা দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী লাসিথ মালিঙ্গার সমালোচনাও আলাদাভাবে এসেছে লঙ্কান সংবাদমাধ্যমে।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে উঠবে, এমনটা আগে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। শুরু থেকে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করা হয়েছিল ফেভারিট হিসেবে। এদের সবার বিদায়ের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শিরোপাটা এখানেই থেকে যাবে। শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাততে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ৩৫ হাজার দর্শক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফল যা হয়েছে, তাকে ‘হূদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছে ‘ডেইলি মিরর’। শ্রীলঙ্কাকে ‘চোকার্স’ বলেও অভিহিত করেছে পত্রিকাটি। ফাইনালের চাপ সামলাতে না পারার জন্যই শিরোপাটা হাতছাড়া হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে মিরর। তারা লিখেছে, ‘শ্রীলঙ্কা, তাদের চোকার্স তকমাটা আরও জোরদার করেছে। যে দলকে সুপার এইটে তারা ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে, তাদের কাছেই হেরে গেছে ফাইনালে।’ শ্রীলঙ্কার আরেক পত্রিকা ‘চেলন টুডে’ লিখেছে, ‘সিংহদের নীরবতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাচল শ্রীলঙ্কার কবরে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী লাসিথ মালিঙ্গা। কিন্তু দলের এই প্রধান বোলারটি গতকাল দেখিয়েছেন সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। চার ওভার বল করে তিনি দিয়েছেন ৫৪ রান। নিতে পারেননি কোনো উইকেট। মালিঙ্গার এ ব্যর্থতাকেও দলের হারের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছে ‘ডেইলি মিরর’। তারা লিখেছে, ‘ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সেরা বোলার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স দেখাতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।’
ফাইনালে স্টেডিয়ামে লঙ্কান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের উপস্থিতিকেই এ ব্যর্থতার কারণ হিসেবে শনাক্ত করেছেন অনেক শ্রীলঙ্কান সমর্থক। এর আগেও দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। দুবারই সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজাপক্ষে। তাই হয়তো এক লঙ্কান সমর্থক তাঁর টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘এবারও একই কাহিনি ঘটল।’

Advertisements

Posted on October 8, 2012, in news and tagged , , , , . Bookmark the permalink. Comments Off on লঙ্কান গণমাধ্যমের দুঃখগাথা.

Comments are closed.

%d bloggers like this: