জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে মতিঝিল রণক্ষেত্র


পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে আজ সোমবার বিকেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর মতিঝিল এলাকা। সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা একটি বাস, পুলিশের একটি ভ্যান, তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। কিছু যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশের সদস্যসহ জামায়াত-শিবিরের বেশ কজন কর্মী আহত হন।
আজ কুষ্টিয়া ও বগুড়াতেও পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নয়জন নেতা ও কারাগারে আটক সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিতে গতকাল আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল জামায়াতে ইসলামী। ওই ঘোষণা অনুযায়ী আজ বিকেলে তারা বিক্ষোভ মিছিল করে।
মতিঝিল: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে রাস্তায় সমাবেশ শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এতে নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর ও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তখন ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
রমনা বিভাগের পুলিশের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা হঠাত্ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকেও জিম্মি করে ফেলেন। এ সময় পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।’
অন্যদিকে, এই সংঘর্ষের ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য পুলিশ দায়ী। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিপেটা শুরু করে।’
কুষ্টিয়া: বিকেল চারটার দিকে শহরের মজমপুর এলাকা থেকে জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতা-কর্মী একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। মিছিলকারীদের কয়েকজন এ সময় পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছুড়তে থাকেন। সড়কে থাকা সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। ইট ও পাথরের আঘাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক ওবায়দুর ও নাজমুল হোসাইনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর জামায়াত দাবি করেছে, পুলিশের হামলায় তাদের দলের ১০ জন আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মিছিল ও আশপাশের এলাকা থেকে ২০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বগুড়া: বেলা দুইটার দিকে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের বাটা বাজারের সামনে থেকে জামায়াত-শিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পুলিশ তাতে বাধা দিলে মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁরা পুলিশের উপপরির্শক রেজাউল করিম, সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (টিএসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশের অন্য সদস্যরা এসে মিছিলকারীদের ধাওয়া করেন। এ সময় তাঁরা সাতানিবাড়ির সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তখন মিছিলকারীরা সাতমাথায় বাণিজ্যিক কলেজের সামনে থাকা একটি পুলিশ ভ্যান ভাঙচুর করেন। এরপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবারের গুলি ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুরো সাতমাথাসহ আশপাশের এলাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

Advertisements

Posted on November 5, 2012, in news and tagged , , , , , , , . Bookmark the permalink. 1 Comment.

  1. ki suru holo ki bangladesha…….

%d bloggers like this: