বিদায় মেদভুঁড়ি!


health pictureওজন তেমন বেশি না, দেখলে কেউ মোটা বলবে না। কিন্তু নিজে তো জানেন, ঢোলা পোশাকের নিচেই রয়েছে মেদভুঁড়ি। নানা নকশার পোশাকে কত বুদ্ধি করে আড়াল করে রাখতে হয় তা। ছবি তোলার সময় শ্বাস ভেতরে টেনে পেট টান টান রাখার কী আপ্রাণ চেষ্টা। তাঁদের জন্য এই প্রতিবেদন। পেটের মেদ কমানোর নানা পরামর্শ জেনে নিন। যাঁরা একটু অবসর সময় পান তাঁদের জন্য জিমনেশিয়াম বা ব্যায়ামাগারে যাওয়া সহজ। কিন্তু যাঁরা ব্যস্ততায় থাকেন তাঁরা সেই সময়টা সহজে বের করতে পারেন না। তবে তাঁরা ঘরে বসেই অল্প সময়ে কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। আর সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে খাবার-দাবারের দিকটাও।

পরিমিত খাবারের পরিমিত পুষ্টি গ্রহণ করলেই মেদ-চর্বিহীন স্বাস্থ্য পাওয়া সম্ভব। এতে ভুঁড়িও বাড়বে না বলে জানালেন বারডেমের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার। তিনি বললেন, মোটামুটি চারটি কারণে পেট বড় হয় বা ভুঁড়ি বাড়ে।

.বাইরের খাবার বেশি খাওয়া বিশেষ করে মেয়োনিজ, মার্জারিনযুক্ত ফাস্টফুড মেদ বাড়ায়। এসব খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে, অল্প করে খেলেও তা দেহের জন্য বাড়তি হয়ে যেতে পারে।

বাড়ির খাবারও পরিমিতভাবে না খেলে পেটে মেদ জমতে পারে। খেতে হবে পরিমাণমতো। উচ্চতা, ওজন ও বয়স অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু। ভাতও যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয় তবে সেই উদ্বৃত্তটুকু মেদে পরিণত হয়।

বসা কাজে ভুঁড়ি বাড়ে। অর্থাৎ অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে (যেমন, অফিসে কম্পিউটারের সামনে বসে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে) তলপেট দ্রুতই বাড়ে।
.খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে গেলে দেহে চর্বি জমে।

মেদ কমাতে কী করা চাই তা-ও জানালেন তিনি

* বাইরের যেকোনো ধরনের খাবার যেমন, ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিংকস বা উচ্চ মাত্রায় ক্যালরি বা প্রোটিন আছে এমন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
* বাসায় রান্না করুন কম তেলে। খেতে পারবেন মাছ ও শাকসবজি। মাংস খাবেন পরিমাণমতো। খাবার খেতে হবে সময়মতো। না খেয়ে থাকলে বা অনিয়মিত খেলে পেটে গ্যাস জমে। কিন্তু অল্প পরিমাণে খেলে গ্যাস্ট্রিক হয় না। তাই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

.* দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থেকে অন্তত এক ঘণ্টা পর পর ৫-১০ মিনিট হেঁটে নিন।
* খাবার খাওয়ার পর অন্তত এক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করুন। তারপর চাইলে ঘুমাতে পারেন। দুপুরে খাবার পর বিশ্রামের জন্য ৩০ মিনিটের ঘুমই যথেষ্ট।
ভুঁড়ি কমাতে চাইলে খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যায়ামও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের জন্য আধা ঘণ্টা সময় বের করে নিলেই চলবে। আর সেটাও বাড়িতে বসেই করতে পারবেন। এমনিতে যাঁদের ওজন খুব বেশি নয়, তাঁরা বাড়িতে নিয়মিত ব্যায়াম করলেই ফল পাবেন। অ্যাডোনাইজ ফিটনেস সেন্টারের প্রশিক্ষক অন্তরা হোসেন ঘরে বসে করার জন্য সহজ কিছু ব্যায়ামের নিয়ম বলে দিলেন।
.

ক্রানচ
সোজা হয়ে শুয়ে দুই হাত মাথার নিচে রাখুন। থুতনি হালকা উঁচু করে রাখুন। এবার দুই পা উঠিয়ে ভাঁজ করুন। পায়ের গোড়ালি মাটি ছুঁবে না। দুই পায়ের মাঝখানে ফাঁকা রাখুন। এবার কোমর থেকে শরীরের ওপরের অংশ যতটুকু ওঠানো সম্ভব, একবার উঠিয়ে নিন, আবার শুয়ে পড়ুন। এভাবে ১৫ বার ওঠানামা করুন। এমন করে তিন সেট অর্থাৎ তিনবার করুন। এই ব্যায়াম পেটের ওপরের অংশের জন্য। •

অ্যাবস ক্রানচ
সোজা হয়ে শুয়ে নিন দুই হাত মাথার নিচে রাখুন। দুই পা একসঙ্গে জোড়া করে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত ওপরে উঠান। এবার কোমর থেকে শরীরের ওপরের অংশ যতটুকু সম্ভব ওপর-নিচ করুন। এভাবে ১৫ বার ওঠানামা করুন। এটিও তিন সেট করুন। এই ব্যায়াম পেটের মাঝের অংশের জন্য।
.

লোয়ার অ্যাবস
সোজা হয়ে শুয়ে দুই হাত নিতম্বের নিচে রাখুন। দুই পা একসঙ্গে জোড়া করে পা দুটো ৩০ থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত ২০ বার ওঠানামা করুন। এটিও তিন সেট করুন। এই ব্যায়ামটিও তলপেটের জন্য। তিনটি ব্যায়াম একই সময়ে পরপর করে নিলে সুফল পাওয়া যাবে। মাঝে একটু বিশ্রাম নিয়েও করতে পারেন।
নারী-পুরুষ যে কেউ করতে পারেন এই ব্যায়াম। তবে অন্তরা বললেন, প্রতিদিন এই ব্যায়াম না করে এক দিন পর পর করে সপ্তাহে তিন দিন করলেই হবে। মাংসপেশি স্বাভাবিক রাখতেই কিছু সময় বিরতি দিয়ে শরীরচর্চা করতে হয়।

Advertisements

Posted on September 1, 2015, in Health and tagged , , , , , , , , , , , , , , , . Bookmark the permalink. Leave a comment.

Sayedbd Reply..

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: